সফর হতে ফিরে আসার পর সলাত আদায়

কা‘ব ইবনু মালিক (রাযি.) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর হতে ফিরে এসে প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করতেন।

 

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলাম। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। রাবী মিস‘আর (রাযি.) বলেনঃ আমার মনে পড়ে রাবী মুহারিব (রহ.) চাশতের সময়ের কথা বলেছেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় কর। জাবির (রাযি.) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা আদায় করে দিলেন বরং কিছু বেশী দিলেন।

 

আবূ কাতাদাহ্ সালামী (রাযি.) হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে সালাতের পরে হাদাসের পূর্ব পর্যন্ত যেখানে সে সালাত আদায় করেছে সেখানে যতক্ষণ বসে থাকে ততক্ষণ মালাকগণ তার জন্যে দু‘আ করতে থাকেন। তাঁরা বলেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ! তার উপর রহম কর।

 

আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বলেনঃ মসজিদে নাবাবীর ছাদ ছিল খেজুর গাছের ডালের তৈরি। ‘উমার (রাযি.) মাসজিদ নির্মাণের হুকুম দিয়ে বলেনঃ আমি লোকদেরকে বৃষ্টি হতে রক্ষা করতে চাই। মসজিদে লাল বা হলুদ রং লাগানো হতে সাবধান থাক, এতে মানুষকে তুমি ফিতনায় ফেলবে। আনাস (রাযি.) বলেনঃ লোকেরা মাসজিদ নিয়ে গর্ব করবে অথচ তারা একে কমই (‘ইবাদাতের মাধ্যমে) আবাদ রাখবে। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেনঃ তোমরা তো ইয়াহূদী ও নাসারাদের মত মাসজিদকে কারুকার্যমণ্ডিত করে ফেলবে।

 

 

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে মাসজিদ তৈরি হয় কাঁচা ইট দিয়ে, তার ছাদ ছিল খেজুরের ডালের, খুঁটি ছিল খেজুর গাছের। আবূ বাকর (রাযি.) এতে কিছু বাড়ান নি। অবশ্য ‘উমার (রাযি.) বাড়িয়েছেন। আর তার ভিত্তি তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে যে ভিত্তি ছিল তার উপর কাঁচা ইট ও খেজুরের ডাল দিয়ে নির্মাণ করেন এবং তিনি খুঁটিগুলো পরিবর্তন করে কাঠের (খুঁটি) লাগান। অতঃপর ‘উসমান (রাযি.) তাতে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অনেক বৃদ্ধি করেন। তিনি দেয়াল তৈরি করেন নক্শী পাথর ও চুন-সুরকি দিয়ে। খুঁটিও দেন নক্শা করা পাথরের, আর ছাদ বানিয়েছিলেন সেগুন কাঠের।

আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ (রাযি.) তাঁর নিকট এসে কিতাবাতের* দেনা পরিশোধের জন্য সাহায্য চাইলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি চাইলে আমি (তোমার মূল্য) তোমার মালিককে দিয়ে দিব এ শর্তে যে, উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকবে আমার। তার মালিক ‘আয়িশাহ (রাযি.)-কে বললোঃ আপনি চাইলে বাকী মূল্য বারীরাকে দিতে পারেন। রাবী সুফইয়ান (রহ.) আর একবার বলেছেনঃ আপনি চাইলে তাকে আযাদ করতে পারেন, তবে উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকবে আমাদের। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন তখন আমি তাঁর নিকট ব্যাপারটি বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কারণ উত্তরাধিকার স্বত্ব থাকে তারই, যে আযাদ করে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর দাঁড়ালেন। সুফইয়ান (রহ.) আর একবার বলেনঃ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে বললেনঃ লোকদের কী হলো? তারা এমন সব শর্ত করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। কেউ যদি এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তার সে শর্তের কোন মূল্য নেই। এমনকি এরূপ শর্ত একশবার আরোপ করলেও। মালিক (রহ.)…..‘আমরা (রহ.) হতে বারীরাহ (রাযি.)-এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন, তবে মিম্বারে আরোহণ করার কথা উল্লেখ করেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *