রুকু পেলে রাকআত হবে কি না

আমাদের বেচে থাকতে হলে অবশ্যই পাচ ওয়াক্ত নামায পড়তে হবে। কারণ নামায মানুষের উপর আল্লাহ ফরয করে দিয়েছেন। আর আল্লাহর আদেশ আমাদেরকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। তেমনি ভাবে নামাযের কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। সেই নিয়ম কানুন অনুসারে নামায পড়তে হবে। তা না হলে সেই নামায আল্লাহর নিকট গ্রহনযোগ্য হবে না। আর আমাদের প্রতিটা ফরয নামাযই জামাআতের সাথে আদায় করতে হবে। কারণ এক জন অন্ধ ব্যক্তিকেউ জামায়াত ছাড়ার রকসুত দেওয়া হয় নি ।জামাআতে অংশ নেওয়ার সময় কিছু বিলম্ব হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বাকি নামায কি ভাবে আদায় করতে হবে সেই তথ্য গুলো জেনে জানতে হবে।

আর তাহলেই সঠিক ভাবে নামায আদায় করতে পারবেন।

আল্লাহর রাসূল বলেন , যখন তােমরা নামাযে আসবে এবং আমাদেরকে সিজদা করা অবস্থায় পাবে তখন তােমরাও সিজদা কর এবং ওটাকে কিছু গণ্য কর না । আর যদি কেউ রুকু পায় তাহলে সে ঐ রাকআতটি পেয়ে গেল । আবু হুরাইরার বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন , যে ব্যক্তি ইমামের সাথে তার পিঠ সােজা করার আগে একটি রাকআত পেল সে রাকআতটি পেয়ে গেল । আবু হুরাইরাহ ( রাঃ ) বলেন , যে ব্যক্তি জুমুআর নামাযের শেষ রাকআতে রুকু পেল সে যেন ওর সাথে অন্য রাকআতটি মিলিয়ে নেয়।

 

যায়দ ইবনু অহ্হাব বলেন একদা আমি এবং ইবনু মাসউদ মাসজিদে ঢুকলাম । অত পর আমরা ইমামকে রুকূ অবস্থায় পেলাম । তাই আমরাও রুকূ করলাম । তারপর হেঁটে কাতারে দাঁড়িয়ে গেলাম । অত : পর ইমাম যখন নামায শেষ করলেন , তখন আমি দাঁড়ালাম । যাতে ঐ রাকআতটি পুরাে করি । তখন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বললেন , তুমি নামায পুরাে করেছাে । উক্ত হাদীসগুলাের ভিত্তিতে ইমাম শওকানী বলেন , যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেলাে সে ঐ রাকআতটি পেয়ে গেল । এ দিকেই গিয়েছেন জমহুর বা অধিকাংশ ওলামা। মাওলানা আব্দুস সাত্তার সাহেব বলেন , বুখারীর ভাষ্যকার আল্লামা শাইখ ইবনু হাজার আস্কালানী সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব হবার মত পােষণকারী হওয়া সত্ত্বেও পরিষ্কার ভাষায় ফাতহুল বারীর ২য় খণ্ড লিখেছেন : মাসবুক বা পিছপড়ে যাওয়া নামাযী রুকূ পেলে রাকআতটি পুরাে পাবে ।আবু হুরাইরা ( রাঃ ) তিনি এই রিওয়ায়াত বর্ণনা করলেও তিনি নিজেই এক ফতওয়ায় বলেছেন রুকূর আগে কেয়ামের অবস্থায় ইমামকে না পেলে রাকআতটি তােমার জন্য যথেষ্ট হবে না। অন্য ফতওয়ায় তিনি বলেছেন , যখন তুমি রুকূ পাবে । তখন সেটাকে রাকআতের মধ্যে গণ্য করাে না ।

 

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) বলতেন , যে ব্যক্তি রাকাআত অর্থাৎ রুকূ পেল সে নিশ্চয়ই সিজদা অর্থাৎ রাকআতটিও পেল । আর যার থেকে সূরা ফাতিহা পড়া ছাড় গেল তার থেকে বহু ভাল ছাড় গেল ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *