পড়াশুনার নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় টিপস

পড়াশুনার উপর একজন শিক্ষার্থী মেধাবী হোক বা দুর্বল, কোন না কোন কিছু সমস্যা তার থাকেই। কিছু সমস্যা আছে যা, সে নিজেই সমাধান করতে পারে আবার কিছু সমস্যা আছে সে নিজে সমাধান করতে পারে না। তার এসব সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষক বা কোচিং সেন্টারের সাহায্য নিতে হয়। সমস্যা যাই হোক না কেন, কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয় নিজের অসচেতনতা কারণে, আবার কিছু সমস্যা মানসিক কারণে। এছাড়া একজন শিক্ষার্থীর সমস্যা গুলো পারিবারিক অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগতও হতে পারে। সবার মনে রাখা উচিত “একজন মেধাবী ছাত্র মানে ভাল ছাত্র না।”  ভাল ছাত্র হতে হলে তাকে সব সময় সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যদি আমরা বিভিন্ন প্রতিভাবানদের জীবনী লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাব, তারা ছাত্র জীবনে বিভিন্নও রকম সমস্যায় ভুগেছিলেন। যেমনঃ-

বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন ছেলে বেলায় এতই বোকা ছিলেন যে, মাস্টার মশাই তার মাকে লিখেছেন, “আপনার সন্তান স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন, সে এই স্কুলের পড়াশুনার উপযুক্ত নয়, আমরা কোনোভাবেই তাকে আমাদের স্কুলে আর আসতে দিতে পারি না।”

বিজ্ঞানী আইনস্টনকে ছেলেবেলায় স্কুলে বলা হতো এক নাম্বার গবেট। স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে তার লেখাপড়া শুরু করতেই প্রায় নয় বছর পেরিয়ে যায় সেসময়। তার স্মৃতিশক্তি দুর্বলতার কারণে তিনি একদম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তারপর তার আপ্রাণ প্রচেষ্টার কারণে দুই বছরে তার স্মুতিশক্তির অসাধারণ উন্নতি হয়েছিলো। বাকি কথা তো বিশ্বের সবাই জানে।

 

ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে এবং এগুলোর সমাধান আছে কি?  ছাত্র-ছাত্রীর সকল সমস্যার সমাধান নিয়ে লেখাটি পড়ে নিতে পারেনঃ-

পরিপূর্ণ ভাবে ভাষায় দক্ষতা অর্জনঃ

পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে হলে বাংলা ও ইংরেজি দুটোতেই পরিপূর্ণ ভাবে দক্ষ হতে হবে। এই দক্ষতা অর্জনের জন্য গ্রামারের প্রতি আপনাকে পরিপূর্ণ ভাবে দৃষ্ট রাখতে হবে। বেশির ভাগ গবেষণায় দেখা গেছে যে, ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রামারে যেমন দুর্বল হয় তেমনি তারা এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে খুব বেশি ভয় পায়। যাকে মানসিক দুর্বলতা বলা হয়ে থাকে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আপনাকে বাধ্যতামূলক একজন ভাল শিক্ষকের পরামর্শ নিতেই হবে এবং প্রতিদিন চর্চা চালিয়ে যেতে হবে।এছাড়া নির্ভুল বানান, সুন্দর ও ঝকঝকে খাতা উচ্চ নম্বর পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে।

লেখা পড়ায় আঠার মতো লেগে থাকাঃ

একটা কথা মনে রাখবেন। জীবনে যা কিছু করেন না কেন, তার পিছনে আপনাকে আঠার মতো লেগে থাকতে হবে।  আপনার পড়াশুনার বিভিন্ন সমস্যাগুলো একটা একটা করে আপনি চিহ্নিত করুন এবং অন্যরা কিভাবে তার সমাধান করেছে তা থেকে ধারণা নিয়ে নিন। পড়াশুনা কে মন থেকে ভালবাসুন, দেখবেন একদিন সফলতা আসবেই। ইনশাআল্লাহ্‌।

বুঝে পড়ুন ও বার বার লিখুনঃ

“১০০ বার অমনোযোগী হয়ে পড়ার চেয়ে ১ বার বুঝে পড়া অনেক উত্তম বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আর ৩০ বার বুঝে পড়ার চেয়ে ১ বার লিখা আরও উত্তম বলে আমি মনে করি। যাই পড়েন না কেন তা পুনরায় লিখবেন। মনে রাখবেন অতি মূল্যবান ব্রেনের চেয়ে ৫ টাকার কলম অনেক অনেক বেশি মূল্যবান।

সবসময় শিক্ষকের উপদেশ মেনে চলাঃ

আপনি সবসময় আপনার শিক্ষকের উপদেশ মেনে চলুন। কারণ, শিক্ষক আপনার গুরুজন এবং একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তিনি জানেন কিভাবে লেখাপড়া করলে আপনার সফলতা অনিবার্য।

দলীয় ভাবে লেখা পড়া করাঃ

লেখাপড়া সহজ ভাবে মনে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী মনে রাখার একটি পরীক্ষিত গঠন মুলক পদ্ধতি হল গ্রুপ স্টাডি বা দলগত ভাবে লেখাপড়া করা। যাকে অনেকে ডিসকাস থেরাপিও বলে থাকেন। লেখাপড়ায় সফলতা অর্জনের জন্য এ পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। আপনার সহপাঠীদের সাথে দলবদ্ধ হয়ে যে কোন কঠিন বিষয় খুব সহজে আয়ত্ত করতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *