নেশা থেকে নিজেকে দূরে রাখার উপায়

আমরা সকলেই জানি আমাদের দেশে নেশা একটি বড় ধরনের আতঙ্কের নাম। আর এই নেশায় প্রতিনিয়ত জড়িয়ে পরছে হাজারো যুবক। যারা নিজেদেরকে প্রতিনিয়ত ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যু কুয়ায়! যেখান থেকে ফিরে আসার পথটা খুব বেশি সহজ হয়ে থাকে না। আর এই পথ থেকে ভালো পথে ফিরে আসার পথ থাকলেও সেখান থেকে ফিরে আসতে অক্ষম থাকে বেশির ভাগই। তাই আজ আপনাদেরকে জানাবো কিভাবে আপনারা এই নেশা থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন বা কখনও নিজেকে এই নেশায় জড়াবেন না।

আমরা অনেকেই হয়তোবা নেশা বলতে শুধুমাত্র সিগারেট বা গাঁজাকেই চিনে থাকি কিন্তু এই সিগারেট গাঁজার থেকেও অনেক বড় ধরনের নেশা আমাদের সমাজে ছড়িয়ে আছে। আর যেই গুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে ধ্বংস করছে নিজেকেই হাজারো যুবক। আর সেই নেশা জাতক দ্রব্য গুলো হলো- সিগারেট, গাঁজা, ড্রাগস, হিরোইন, ফেন্সিডাইল, গাম, বাংলা(মদ), ইয়াবা, এছাড়াও বিভিন্ন মেডিসিন যেগুলো বিভিন্ন রোগের সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকলেও যেগুলো অধিক পরিমানে সেবন করলে যে কোন কাউকেই নেশাগ্রস্থ করে ফেলে থাকে।

এখানে উল্লিখিত নেশা জাতক দ্রব্য গুলোর মধ্যে অনেকেই সব গুলোর নাম জানি না। কিন্তু সমাজে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে আছে এই নেশা গুলো। আর এইগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করার কিছু উপায় আছে যেগুলো মেনে চললে আপনি নিজেকে নেশা থেকে দূরে রাখতে পারবেন তার সাথে আপনি আপনার আশেপাশের মানুষ গুলোকেও নেশা থেকে বাঁচাতে পারবেন।

এর জন্য আপনার করনীয় হলো, আপনাকে প্রথমেই আপনার ব্রেইনে সেভ করে রাখতে হবে যে, নেশা করা ভালো না আর এই নেশা মৃত্যুর কারন। দেখবেন আপনি কখনও নিজেকে নেশায় জড়াতে পারবেন না। এর পরেও অনেক সময় নিজেকে অনেকেই জড়িয়ে ফেলে নেশায়। যেমন- কোনো অনুষ্ঠানে বন্ধুদেরকে দেখে নিজের মধ্যে নেশা নেয়ার আগ্রহ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় খারাপ বন্ধুরা দুস্টমি করে বলতে পারে যে, দেখ দোস্ত একবার টেস্ট করে দেখ অনেক ভালো লাগবে। তাদের এই মোহময় ডাকে সাড়া দেয়া যাবে না।

এছাড়াও নিজেকে নেশায় জড়ানোর সবচেয়ে বড় কারন হিসেবে যে কারণটি দাঁড়ায় সেটি হলো টেনশন বা দুশ্চিন্তা। যেটা একটা মানুশকে খুব দ্রুত নেশায় আকৃষ্ট করে তোলে। তাই যত টেনশনি আসুক না কেন নিজেকে নিজের আয়ত্তে রেখে নেশা থেকে নিজেকে দুরে রাখতে হবে। অনেকেই আবার প্রচুর টাকার মালিক হয়ে গেলে বিলাসিতার নেশায় পরে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে নেশায়। তারা এতটাই খারাপ পরিবেশে চলে যায় যে, একটা সময় তার বিলাসি জীওন থাকে না, কিন্তু তার নেশার চাহিদা থেকেই যায় আর এই চাহিদা পুরন না করতে পেরে তারা অনেক খারাপ কিছু করে ফেলে। এমনকি তারা খুন পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করে না একবার। যেগুলো একটা সাধারন মানুষ চিন্তা করলেই অসুস্থ হয়ে পরে।

যাই হউক এই নেশা নামক খারাপ বিষয়টি থেকে নিজেকে দূরে রাখার উপায় হিসেবে আমি বলতে চাই- আপনি নিজেকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন, আপনার সাথে চলা মানুষ গুলো কতটা ভালো তা যাচাই করে ঠিক ভালো মানুষটির সাথে সময় ব্যয় করুন, টাকা বা প্রাচুয্যের বাহাদুরি দেখিয়ে কখনই নিজেকে পথভ্রষ্ট করবেন না। সর্বোপরি এতটুকুই বলতে পারি যে, নিজেকে নিজে আয়ত্তে রাখতে পারাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আশেপাশের পরিবেশটা কখনও খারাপ কখনও ভালো থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন, ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *