নাপাক লোকের জন্য কতিপয় জ্ঞাতব্য

মানুষ সামাজিক জীব। মানুষকে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে নানান কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। কখনও ভাল কিছু অথবা খারাপ কিছুও করে থাকে। সকল কিছুই করে পৃথিবীতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্যে। তবুও কোন ব্যক্তি মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায় নি আর পরবর্তী সময়ে পাবেও না। তাই সকল কিছুই পূর্বে থেকে সঠিক আকিদায় মেনে চলতে হবে। যাতে আল্লাহর নিকটে হাজার হবার পর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।

 

রসূল (সাঃ) বলেছেন যে ঘরের ভিতরে কোন কিছুর ছবি থাকবে হতে পারে মানুষের, কুকুরের, জীব যন্তু অথবা যে কোন প্রানির ছবি ঘরের ভিতরে থাকলে ফেরেস্তা সেই ঘরে প্রবেশ করবে না। অপর দিকে ঘরের ভেতর যদি নাপাক নারী অথবা পুরুষ থাকে তাহলেও ফেরেস্তা সেই ঘরে প্রবেশ করবে না।একদা হযরত ওমর (রাঃ) রসূল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন যে রাতে নাপাকি থাকলে কি করতে হবে? তখন রসূল (সাঃ)বললেন যে রাতেই নাপাকি স্থান ধুয়ে এবং অযু করতে হবে না হলে ফেরেস্তা সেই ঘরে প্রবেশ করবে না। রসূল (সাঃ) আরও বললেল যে কেউ যদি একাধিক বার সহবাস করতে চায় তাহলে প্রতি বার গোসল না করে অযু করে পরবর্তীতে আবার সহবাস করতে পারবে। কারণ পরবর্তী অযুটা সহবাসের জন্য খুবই উৎফুল্লের হবে। সব শেষ সহবাসের পর অবশ্যই ফরয গোসল করতে হবে। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন , নবী (সাঃ) যখন সহবাস নিত নাপাক হবার পর কিছু খাবার অথবা ঘুমাবার ইচ্ছা করতেন তখন নামাযের অযুর মত অযু করে নিতেন। রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন , হায়েযওলী নারী ও নাপাক নারী পুরুষ যেন কোরআন না পড়ে এবং মসজি যেও না যদি যায় তবে তারা কোরআন পড়া শুনতে পারে এবং গেলাফসহ কোরআন ছুতে পারে ও হাত বাড়িয়ে মসজিদে কিছু রাখতে বা কোন জিনিষ বের করতে পারে ।

 

 

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন , রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সহবাসের পর গােসল করে আমার গায়ে গা ঠেকিয়ে নিজের শরীর গরম করে নিতেন । অথচ আমি তখন ফল গোসল না করে নাপাকী থাকতাম। আবু হােরায়রার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে জুনবী অথাৎ সহবাস কিংবা স্বপ্নদোষ জনিত নাপাক লােকের সাথে ওঠাবসা মেলামেশা লেনদেন খাওয়া দাওয়া সালাম ও মােসাফাহা সবই চলতে পারে । ইবনে আব্বাস বলেন , নবী ( সঃ ) এর কোন বিবি একটি পাত্রে ফরয গােসল । অতঃপর রসুলুল্লাহ ( সঃ ) ঐ পাত্রের পানি দিয়ে অযু করার ইচ্ছা করলেন । তখন ঐ বিবিটি বললেন , আমি জুনবী বা নাপাক ছিলাম ।তখন হুযুর (সাঃ) বললেন , পানি নাপাক হয় না । অহং নাপাক লােক কোন পানিতে হাত ডুবিয়ে গােসল করলে বাকি পানিটা নাপাক হয় না । হযরত আয়েশা ( রাঃ ) বলেন আমি ও রসুলুল্লাহ ( সঃ ) দুজনে একসাথে একই পাত্রে হাত ডুবিয়ে ফরয গােসল করতাম। ইবরাহীম বলেন জুনবী মসজিদের উপর দিয়ে যাবে না তবে যদি কোন রাস্তা না পায় তাহলে যেতে পারবে । ইবনে মােসাইয়েব বলেন পার হবার সময় সে যেন মসজিদে না বসে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *